বুদ্ধিজীবী” কোন সমাস?
-
ক
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
-
খ
উপপদ তৎপুরুষ
-
গ
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
-
ঘ
সমার্থক দ্বন্দ্ব
আমরা জানি যে, ধাতু বা কৃদন্ত পদের পূর্বে দুই ধরনের শব্দ যুক্ত হয়। একটি হচ্ছে উপসর্গ, অপরটি হচ্ছে উপসর্গহীন অন্য শব্দ। যে ধাতু বা কৃদন্ত পদের পূর্বে উপসর্গহীন শব্দ বসে, সে-ই উপসর্গহীন শব্দটিকে উপপদ বলে। যেমন- যাদুকর (যাদু করে যে); এখানে পরপদটিতে রয়েছে, কর্ নামক ধাতু। আর এই ধাতুর পূর্বের শব্দটি হচ্ছে যাদু; যা উপসর্গহীন। এই উপসর্গহীন 'যাদু' পদটি হচ্ছে উপপদ।
উপপদের সাথে ধাতুর বা কৃদন্ত পদ একত্রিত হয়ে যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস চেনার উপায়- উপপদ তৎপুরুষ সমাস চেনার সাধারণত দুটি উপায় রয়েছে।
১) সংস্কৃত সমাসবদ্ধ শব্দের ক্ষেত্রে পরপদটি সাধারণত স্বাধীনভাবে ব্যবহার হয় না। অন্য শব্দ যুক্ত হয়ে তবেই ব্যবহার উপযোগী হয়। যেমন- অগ্রগামী (অগ্রে গমন করে যে); এখানে যদি 'অগ্র' পদটিকে বাদ দিই, তাহলে 'গামী' পদটি আর স্বাধীনভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয় না। এরূপ উদাহরণ- বহুদর্শী, কৃষিজীবী, বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি। এসব শব্দের -দর্শী, জীবী পরপদগুলোর স্বাধীনভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
২) অপর একটি উপায় হচ্ছে, এসব সমাসবদ্ধ পদ দিয়ে 'যে কাজটি করে' এমন অর্থ প্রকাশ পায়। অন্যান্য সমাসের সাথে মূলত এটিই পার্থক্য। যেমন- জলদ (জল দেয় যে); পঙ্কজ (পঙ্কে জন্মে যে), প্রিয়ংবদা, পকেটমার ইত্যাদি।
অনেকের প্রশ্ন- বুদ্ধিজীবী শব্দটির 'জীবী' কৃদন্ত পদ বা ধাতু দিয়ে গঠিত কি না? উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। জীবী শব্দটির গঠন √জীব্ + ইন = জীবী; যা জীব্ ধাতু থেকে তৈরি।
বুদ্ধিজীবী - ব্যাসবাক্য হচ্ছে, ' বুদ্ধি বা জ্ঞান দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে যে' । এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, ব্যাসবাক্যে দ্বারা, দিয়ে থাকলে তো তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। এটা উপপদ হল কেন? তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের সাথে এর সূক্ষ্ম পার্থক্য হচ্ছে, তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসে পরপদে কৃদন্ত পদ থাকে কিন্তু কাজটি কেউ করে না, অপরদিকে উপপদ তৎপুরুষ সমাসে 'কাজটি যে করে' এমন অর্থটি প্রকাশ পায়।
এখন আসি প্রশ্নটির উত্তরে, চারটি অপশনের মধ্যে, চৌরাস্তা- দ্বিগু সমাস, ধোয়ামোছা- কর্মধারয় সমাস, বুদ্ধিজীবী- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
দ্বিচক্র- দুইটি চক্র (চাকা) আছে যার = দ্বিচক্র (যান বোঝাচ্ছে); এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। তাই সঠিক উত্তর দ্বিচক্র।
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। যেমন : দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরোয়া যার বেপরোয়া। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের = সৃষ্টি। সমাস দ্বারা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবোধক পদ সৃষ্টি হয়। এটি শব্দ তৈরি ও প্রয়োগের একটি বিশেষ রীতি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলোতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।
সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ ।
সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। উদাহরণ-বিলাত – ফেরত রাজকুমার সিংহাসনে বসলেন। এখানে বিলাত-ফেরত, রাজকুমার ও সিংহাসন এ তিনটিই - সমাসবদ্ধ পদ। এগুলোর গঠন প্রক্রিয়া ও রকম বিলাত হতে ফেরত, রাজার কুমার,সিংহ চিহ্নিত আসন এগুলো হচ্ছে ব্যাসবাক্য। এসব ব্যাসবাক্যে 'বিলাত’, ফেরত’, ‘রাজা, ‘কুমার,’ ‘সিংহ’, ‘আসন' হচ্ছে এক একটি সমস্যমান পদ। আর বিলাত-ফেরত, রাজকুমার এবং সিংহাসন সমস্ত পদ। বিলাত, রাজা ও সিংহ হচ্ছে পূর্বপদ এবং ফেরত, কুমার ও আসন হচ্ছে পরপদ। -
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার : দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাস ।
[ দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন। এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি : দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব। কিন্তু সাধারণভাবে ছয়টি সমাসেরই আলোচনা করা গেল। এছাড়া, প্রাদি, নিত্য, অলুক ইত্যাদি কয়েকটি অপ্রধান সমাস রয়েছে। সংক্ষেপে সেগুলোরও আলোচনা করা হয়েছে। ]
Related Question
View All'ভোটাধিকার' কোন সমাস?
-
ক
বহুব্রীহি
-
খ
কর্মধারয়
-
গ
তৎপুরুষ
-
ঘ
অব্যয়ীভাব
'ভোটাধিকার' কোন সমাস?
-
ক
বহুব্রীহি
-
খ
কর্মধারয়
-
গ
তৎপুরুষ
-
ঘ
অব্যয়ীভাব
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
-
ক
কানে-খাটো
-
খ
নরপশু
-
গ
ঘরমুখো
-
ঘ
তেপায়া
'পলান্ন' একটি-
-
ক
সমাস সাধিত শব্দ
-
খ
উপসর্গ সাধিত শব্দ
-
গ
বচন সাধিত শব্দ
-
ঘ
সন্ধি সাধিত শব্দ
পুষ্পসৌরভ' কোন সমাসের উদাহরণ ?
-
ক
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
-
খ
অলুক দ্বন্দ্ব
-
গ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
-
ঘ
পঞ্চমী তৎপুরুষ
'পাপমুক্ত' কোন সমাস ?
-
ক
কর্মধারয়
-
খ
বহুব্রীহি
-
গ
তৎপুরুষ
-
ঘ
অব্যয়ীভাব
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!